আজানের দোয়ার উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত
ইসলামে আজান শুধু নামাজে ডাক নয়; এটি তাওহিদের ঘোষণা, ঈমানের পরিচয় এবং মুসলিম সমাজে সময় ও ইবাদতের স্মারক। আজান শোনার পর যে দোয়া পড়তে বলা হয়েছে, তা রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সুন্নাহ এবং অত্যন্ত বরকতপূর্ণ।
যখন আযান দেয়া হয় তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যেন সে আযানের শব্দ শুনতে না পায় এবং আজান শেষ হলে আবার ফিরে আসে। আবার যখন ইকামত দেওয়া হয় তখনও হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে যেন সে ইকামতের শব্দ শুনতে না পায় এবং ইকামতের শেষে পুনরায় ফিরে আসে। তাই এর উচ্চারণ, অর্থ ও ফজিলত জানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই উপকারী।
মুয়াজ্জিন যখন আযান দেয় তখন আমাদের উচিত সহি শুদ্ধভাবে আযানের দোয়া পড়া। এতে রয়েছে অনেক ফজিলত এবং সওয়াব হাদিসে এসেছে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন, এক ব্যক্তি বললো,
"হে আল্লাহর রাসুল! মুয়াজ্জিনদের মর্যাদা যে আমাদের চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমিও তা-ই বল, মুয়াজ্জিন যা বলে। তারপর আজান শেষ হলে আল্লাহর কাছে চাও। তখন যা চাইবে তা-ই দেয়া হবে" -(আবু দাউদ, মেশকাত)
আজানের দোয়ার আরবি উচ্চারণ
اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ اٰتِ مُحَمَّدَانِ الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدَانِ الَّذِيْ وَعَدْتَّهٗ. اِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
প্রথমে দরুদ শরীফ পড়ে তারপর উপরোক্ত আযানের দোয়াটি পড়তে হয়।
বাংলা উচ্চারণ (উচ্চারণ সহজ রূপ)
আল্লাহুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ্ দা'ওয়াতিত্ তাম্মাহ, ওয়াস্-সলাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসীলাতা ওয়াল ফদ্বীলাহ, ওয়াদ দারজাতার রফিআতা, ওয়াবআ'ছহু মাক্বামাম মাহমূদানিল্লাযী ওয়াদা'তাহ, ওয়ারজুকনা শাফাআতাহু ইয়াওমাল কিয়ামাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ
আজানের দোয়ার বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও শ্বাশত নামাজের তুমিই প্রভু। হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) কে দান করো বেহশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান এবং সুমহান মর্যাদা। আর তাকে অধিষ্ঠিত কর শ্রেষ্ঠতম প্রসংশিত স্থানে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাকে দিয়েছো। নিশ্চই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যাতিক্রম কর না।
আজান ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম নামাজের সাথে সম্পৃক্ত একটা বিষয়। যে পদ্ধতিতে ঈমানদারদের নামাজ কিংবা ইবাদতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় সেটা হচ্ছে আজান। আজানের মাধ্যমে মুসলমানরা জানতে পারে নামাজের সময় হয়েছে।
মুসলমানরা আজানের পরে নির্দিষ্ট একটা দোয়া পড়ে থাকে, এই দেওয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি আযানের পরে এই দোয়াটি পাঠ করবে সে কেয়ামতের দিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত লাভ করবে।
আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন,
মুআযযিনকে আযান দিতে শুনলে তোমরাও ওর মতই বল। অতঃপর আমার উপর দরুদ পাঠ কর; কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে তার উপর দশবার রহ্মত বর্ষণ করেন। অতঃপর তোমরা আমার জন্য আল্লাহর নিকট অসীলা প্রার্থনা কর; কারণ, অসীলা হল জান্নাতের এমন এক সুউচ্চ স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একটি বান্দার জন্য উপযুক্ত। আর আমি আশা রাখি যে, সেই বান্দা আমিই। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য ঐ অসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য আমার শাফাআত (সুপারিশ) অবধার্য হয়ে যাবে।
- মুসলিম, সহীহ প্রমুখ, মিশকাত ৬৫৭নং
আর অবশ্যই আযানের জবাব সেই ব্যক্তিই দিতে পারবে যার জন্য আল্লাহর জিকির করা জায়েজ। তাই পবিত্র, অপবিত্র এবং মাসিক অবস্থায় আজানের জবাব দিতে পারবে। তবে প্রস্রাব-পায়খানা করা অবস্থায়, স্ত্রীর সাথে সহবাস করার সময় আযানের জবাব দেওয়া বৈধ নয়।
আজানের দোয়ার ফজিলত
১. রাসুল ﷺ এর সুপারিশ লাভ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যে ব্যক্তি আযানের পর উক্ত দু‘আ পড়বে তার জন্য আমার শাফা‘আত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
- সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬১৪, বায়হাকী- সুনানে কুবরা, হাদীস: ১৯৩০
২. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
আজান শেষ হওয়ার পরের সময়টিকে দোয়া কবুলের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এই দোয়া ছাড়াও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের দোয়াও করা উত্তম।
৩. সওয়াব ও বরকত বৃদ্ধি
সুন্নাহ অনুসরণ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায়।
৪. আখেরাতের উচ্চ মর্যাদা
দোয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো রাসুল ﷺ–কে ‘মাকাম মাহমুদ’ প্রদান, যা আখেরাতের শ্রেষ্ঠ সম্মান। এতে মুমিনের জন্যও আখেরাতে কল্যাণ নিহিত।
আজানের পর দোয়া পড়ার আদব
-
আজান মনোযোগ সহকারে শুনা
-
প্রত্যেক কালিমা শেষ হলে মুয়াজ্জিনের অনুসরণে একই বাক্য বলা (হাইয়ালাস সালাহ ও হাইয়ালাল ফালাহ ব্যতীত)
-
আজান শেষে দুরুদ শরিফ পড়া
-
এরপর আজানের দোয়া পড়া